একাদশ শ্রেণীতে পড়াবস্থায় আবৃত্তি শিল্পী শিমুল মোস্তফার কয়েকটি কবিতার আবৃত্তি সৌভাগ্যক্রমে আমার বন্ধুর কাছ থেকে পায়। তার মধ্যে অন্যতম কবিতা ছিল কবি মোহন রায়হানের ‘তোমাকে মনে পড়ে যায়’ নামক রাজনৈতিক কবিতাটা। ঐ কবিতাটা আমার কাছে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কবিতা বলে মনে হয়েছে। কবিতাটা শোনার পর ছাত্র রাজনীতির প্রতি আমার আগ্রহ এবং শ্রদ্ধা দুই-ই বেড়ে যায়। বিশেষ করে রউফুন বসুনিয়া সম্পর্কে জানার তীব্র বাসনা তৈরী হয়। আমি বইমেলা থেকে অনেক খুঁজে আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলামের সম্পাদনায় “পত্রপুট” নামে একটি বইও কিনে ফেলি। শহীদ রাউফুন বসুনিয়ার মৃত্যুতে কাতর হয়ে তার সহযোদ্ধা কবি মোহন রায়হানের যে ক্ষোভ তা কবিতায় অসাধারণভাবে ফুটে উঠে। এ কবিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নাম আছে যেমন- মধুর ক্যান্টিন, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা,শহীদ মিনার, এফ রহমান হল, জসীমউদ্দীন হল ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিকে আইডেন্টিফাই করার ক্ষেত্রেও এই কবিতা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক শব্দচয়নের মাধ্যমে বসুনিয়াকে কবিতায় যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ। কবিতার শুরুটা হয়েছে এভাবে-

মধুর ক্যান্টিনে যাই
অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে
বসু তোমাকে মনে পড়ে যায়।
তোমার সেই সদাহাসিমাখা ফুল্ল ঠোঁট
উজ্জ্বল চোখের দ্যুতি সারাক্ষণ চোখে চোখে ভাসে।
বুঝি এখনই সংগ্রাম পরিষদের মিছিল শুরু করার তাগিদ
দেবে তুমি,ওইতো সবার আগে তুমি মিছিলের ।
কী সুঠাম তোমার এগিয়ে যাওয়ার ভঙ্গিমা,
প্রতিটা পা ফেলছ কি দৃড় প্রত্যয়ে,
কী উচ্চকিত তোমার কন্ঠের স্লোগান যেন
আকাশ ফেটে পড়বে নিনাদে। হাদ উঠছে –হাত নামছে,
মাথা ঝুকছে- ঘাড় দুলছে, চুল উড়ছে বাতাসে;
ওইতো আমাদের ঐক্যের পতাকা হাতে এগিয়ে যাচ্ছ তুমি।”

বসুনিয়া তোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই ‘বসুনিয়া তোরণের’ সাথে পরিচিতি লাভ করি। বসুনিয়া তোরণের সামনে গিয়ে বসুনিয়ার আবক্ষ ভাস্কর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতেই যেন ভাল লাগত আর এখনও লাগে। ভাস্কর্যের গাঁয়ে লিখা আছে-

“১৯৮৫ সালের ১৩ ই ফেব্রুয়ারী শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের শহীদ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেষপর্বের ছাত্র রাউফুন বসুনিয়ার অমর স্মৃতিতে ভাস্কর্যের উদ্ভোধন করবেন উপাচার্য ডঃ আব্দুল মান্নান।”

আর মুহসীন হলের প্রধান গেটের পূর্ব পার্শ্বে লিখা আছে-

তোমার মৃত্যুতে পৃথিবীর তিনভাগ জল অশ্রু হয়ে গেছে আর রাজপথ হয়েছে সাহসী মিছিল।”

এসব লেখা আমাকে খুব প্রভাবিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভাস্কর্য আমার ভাল লাগে তাহল- রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা আর বসুনিয়া তোরণ। আমার বন্ধুরা প্রথম দু’টির ব্যাপারে একমত হলেও তৃতীয়টি মেনে নিতে চায় না। আমি তাদের এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাবার চেষ্টা করি।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রনেতার শরণাপন্ন হই রউফুন বসুনিয়া সম্পর্কে জানার জন্য। এমনকি অনেক রাজনীতি বিশেষজ্ঞের কাছেও রাউফুন বসুনিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আমি যার কাছেই গিয়েছি হতাশ হয়ে ফিরে এসেছি। ছাত্র রাজনীতির উপর লেখা বইতেও বসুনিয়া সম্পর্কে কোন তথ্য পাইনি। গুগলে সার্চ দিয়েও ব্যর্থ হয়েছি এ সম্পকে জানতে। শুরুমাত্র উইকিপিডিয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে সামান্য কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আলাদাভাবে কোন এন্ট্রি দেয়া হয়নি। এর কারণ হয়তো বসুনিয়াকে আমরা কৌশলে ইতিহাস থেকে বাদ দিয়েছি অথবা আমাদের উদাসীনতার কারণে আমরা তাকে ভুলতে বসেছি অথবা এই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। সুতারাং এই ইতিহাস তৈরীতে কোন উপায় না পেয়ে আমাকেই নামতে হয়েছে।
প্রথমেই রাউফুন বসুনিয়া সম্পর্কে জানা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বলার চেষ্টা করি। রাউফুন বসুনিয়া হচ্ছে সেই ছাত্রনেতা যাকে কেন্দ্র করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে।

এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে কয়জন ছাত্রনেতা অগ্রভাগে ছিলেন বসুনিয়া ছিলেন তাদেরই একজন। কবি মোহন রায়হানের ভাষায়-

শিক্ষাভবন মুখে সামরিক শাসন ভাঙ্গার প্রথম মিছিলে  তুমি ছিলে

রক্তাক্ত ১৮ই ফেব্রুয়ারীর কাফেলায় তুমি ছিলে

‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল ট্রাক’ মিছিল চাপা দেওয়ার দিন তুমি ছিলে

সচিবালয় ঘেরাও অভিযানে তুমি ছিলে

জসীম উদ্দীন হল গুন্ডামুক্ত করার লড়াইয়ে তুমি ছিলে

পুলিশের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রধারী দুস্কৃতিকারীদের আস্তানা এফ. রহমান হলে স্টেনগানের মুখে চ্যালেঞ্জ মিছিলে তুমি ছিলে।

চৌঠা আগষ্ট খালিহাতে সশস্ত্র দুবৃত্তদের কবল থেকে আমাদের পবিত্র মাটি রক্ষা করার সম্মুখ সমরে তুমি ছিলে

এমন কোন ধর্মঘট হরতাম মিছিল ঘেরাও আন্দোলন নেই;

তুমি ছিলেনা; সেই নৃশংস ঘাতক রাত্রেও তুমি অস্ত্রধারীদের দুর্গের দিকে

অবিচল যাত্রা অব্যাহত রেখেছিলে। ঘাতক বুলেট ভেদ করে গেছে তোমাকে
কিন্তু পিছু হটোনি। তবু বলি; তুমি সাহসী যোদ্ধা।

তুমি সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান।
যুগে যুগে সংগ্রামীদের অফুরান প্রেরণা।”

এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ’ গড়ে তুলেছিলেন। কবি মোহন রায়হানের ভাষায়-

“বসু, তোমার হত্যাকারী খুনি এরশাদের পেটোয়া বাহিনী
খোকা-পাঁচপাত্তর প্রেতাত্মা নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ মূলত অস্ত্রধারী অছাত্র দুস্কৃতিকারী
এখনও সমান সন্ত্রাস চালাচ্ছে পুলিশের নাকের ডগায় স্টেনগান, পিস্তল, কাটা রাইফেল হাতে প্রকাশে দাপাদাপি করছে তারা যদিও টিকতে পারছে না।”

এর একমাত্র লক্ষ্য ছিল এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে দমিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা। বসুনিয়ার প্রতিশ্রুতিময় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণে বসুনিয়া এরশাদের পেটোয়াবাহিনীর প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়। বসুনিয়া ছিলেন এমন নেতা যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বন্টন এবং ডায়নিং হলের খাবারের গুনগত পরিবর্তনের জন্য আন্দেলন করেছিলেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেতাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। কবি মোহন রায়হানের ভাষায়-

আমাদের শিক্ষা নীতি আজও বদলায়নি
সামরিক খাতে ব্যয় শিক্ষা ভাতের চেয়ে আরো বেড়েছে
নতুন নতুন ক্যান্টনমেন্ট তৈরীর পরিকল্পনা হলেও সংস্কারের
অভাবে জগন্নাথ হলের জীর্ণ ছাদ ধ্বসে তোমার অনেক বন্ধু মারা গেছে
এখনও হলে হলে মেধার ভিত্তিতে সিটবন্টন চালু হয়নি
ডায়নিং হলের ভাতে দাঁত ভাঙে এখনও কাঁকর, আর ডালে হাত ধোয়া যায়
এক পিছ মাছ কিংবা মাংস গড়াগড়ি যায় সেই গোলাকার বাটিতেই
বসু, তুমি এসবের পরিবর্তন চেয়ে জীবন দিয়েছো।”

বসুনিয়া হত্যা ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি রহস্যজনক, কলংকময় ও স্মরণীয় ঘটনা। এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান করার জন্য বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী(বুধবার) রাত ১১টায় জহুরুল হক হল ও এফ রহমান হলের মধ্যবর্তী রাস্তায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মধ্য ফেব্রুয়ারীর প্রস্তুতি মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করলে রাউফুন বসুনিয়া নিহত হন। তিনি ছিলেন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং একইসাথে ডাকসুর নেতা। বসুনিয়া মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। বিভিন্ন হল পরিক্রমণ করে রাস্তায় এসে পৌছলে এফ রহমান হলের দিক হতে গুলি বর্ষণ করা হয়। নীলক্ষেত ফাড়ি হতে মাত্র ১৫০ গজ দূরে মিছিলের উপর বর্ষিত গুলিত বসুনিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি ডান চোখের সামান্য উপরে গুলি বিদ্ধ হন। এ ঘটনার পরপরই মিছিল থেমে যায়। সমগ্র ভার্সিটি এলাকা জুড়ে এরপর ফাঁকা গুলিবর্ষণ শুরু হয়। গুলিবর্ষনের শব্দে ধানমন্ডি, এলিফান্ট রোড,সেন্ট্রাল রোড়ের বাসিন্দারা সচকিত হয়ে উঠে।নিশিথের স্তব্ধতা বিদীর্ণ করে অব্যহত এই গুলি বর্ষণের মধ্যে বসুনিয়ার সহযোদ্ধারা তার লাশ তুলে পাশ্ববর্তী হল ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। রাত ১১:৩০টায় লাশ মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলিবর্ষনের আওয়াজ থেমে যায়।মধ্যরাতের দিকে ভার্সিটি এলাকার স্থানে স্থানে পুলিশ গাড়ি নিয়ে অবস্থান করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো হতে দলে দলে ছাত্র মেডিকেল হাসপাতালের দিকে যায়। অনেক প্রবীণ শিক্ষকও হাসপাতালে নিহত বসুনিয়ারকে দেখতে যান।

১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী কয়েকটি পত্রিকার শিরোনাম দেয়া হল।

১/দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শিরোনাম হয়-
“বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিলে গুলি।। ছাত্রনেতা নিহত ”
২/ দৈনিক সংবাদ-
“মুহসীন হলে হামলা : গুলিতে একজন নিহত”
৩/ দৈনিক বাংলা-
“ভার্সিটিতে গোলাগুলি: ছাত্রনেতা নিহত”

পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল হতে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জড়ো হতে থাকে। বটতলায় বসুনিয়ার জানাজার নামাযের প্রস্তুতি চলাকালে কিছু বিক্ষুদ্ধ ছাত্র এফ রহমান হলে অগ্নিসংযোগ করে।আগুন এফ রহমান হলের টিনশেডগুলিতে ছড়িয়ে পড়লে হলের আতংকিত ছাত্ররা দ্রুত হল ত্যাগ করে।আশপাশের হলগুলি থেকে ছাত্ররা চলে যেতে থাকে। আগুনের মধ্যে ঐ হলে ১০/১২ টি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ঘটে। আগুনে ঐ হলের ১১টি টিনশেডের মধ্যে ৫টি ভস্মীভূত হয়।পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন আয়ত্তে আনে। এর আগে মুহসীন হলের খেলার মাঠের দেয়াল কিছু সংখ্যক উত্তেজিত ছাত্র ভেঙে ফেলে।

জানাজার পর নিহত বসুনিয়ার লাশ নিয়ে ছাত্ররা একটি বিশাল মিছিল বের করে মিছিলটি প্রেসক্লাব, মতিঝিল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনউ হয়ে বায়তুল মোকাররমে আসে। কিছু সংখ্যক ছাত্র আল্লাওয়ালা ভবনে জনস্বার্থ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের অফিসের উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল ছোড়ে। এখানেও উত্তেজিত ছাত্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাদানে গ্যাস ছোঁড়ে।ইত্তেফাক ভবনে ইট পাটকের ইত্যাদি নিক্ষেপ করা হয়। ইত্তেফাক ভবনের বাইরে রাখা চারটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেযা হয়।

টিকাটলির দিক থেকে মিছিলটি আরো এগিয়ে আসে। এসময় গুলিস্থান ভবনের পাশে একটি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জীপ(ঢাকা ত-৩১১) আটক করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনার আধা ঘন্টা পর সাড়ে বারটায় দমকল বাহিনী জীপের আগুন নিভিয়ে ফেলে।
বেলা দুইটার কে বায়তুল মোকাররমে আবার বসুনিয়ার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাজায় সর্বজনাব আব্দুল মালেক উকিল, মহীউদ্দীন, কে এম উবায়দুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমদ, টিপু বিশ্বাস, মীর্জা সুলতান রাজা , রাশেদ খান মেনন, আব্দুল মান্নান ও মাজেদুল হকসহ ১৫ এবং ৭ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তারপর দিন অর্থাৎ ১৫ ই ফেব্রুয়ারী বিভিন্ন পত্রিকায় পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে শিরোনাম হয়-
১/ দৈনিক ইত্তেফাক-
“ছাত্রনেতা হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মিছিল।।
এফ রহমান হলে অগ্নিসংযোগ”
২/দৈনিক সংবাদ-
“বসুনিয়ার লাশ নিয়ে শোক মিছিল
মৃতদেহ রংপুরের স্বগ্রামে প্রেরণ”
“বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ: পরীক্ষা স্থগিত”
৩/দৈনিক বাংলা-
“এফ রহমান হল ভস্মীভূত
ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”

১৭ই ফেব্রুয়ারী দৈনিক ইত্তেফাকে বসুনিয়া সম্পর্কে ডাকসুর বিবৃতি আসে এভাবে-
“রাউফুন বসুনিয়া সম্পর্কে ডাকসু:১৪ ফেব্রুয়ারী কর্মসূচী বানচাল করাই লক্ষ ছিল”
রাউফুন বসুনিয়াকে মিছিলে গুলিবর্ষন করে হত্যার জন্য আওয়ামীলীগ নেতা শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম জিয়া,জাসদ নেতা মীর্জা সিরাজ,জামাতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ সরকারী মদদপুষ্ট নতুন বাংলা নামধারী “পেটোয়া বাহিনীকে” সরাসরি দায়ী করে। সকল ছাত্রসংগঠন বসুনিয়ার হত্যার প্রতিবাদ জানায় এমনকি ছাত্রশিবিরও।
বসুনিয়া হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও জাতীয় ছাত্রদল অর্ধদিবস হরতাল আহবান করে।বসুনিয়াকে কেন্দ্র করেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।

বসুনিয়া হত্যা সম্পর্কে ডাকসু সংগ্রহশালার তত্ত্বাবধায়কের কাছে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, বসুনিয়াকে যে ছেলে গুলি করে সেই ছেলের নাম আইয়ুব। কথাপ্রসঙ্গে জানা যায়, বসুনিয়ার খুনি আইয়ুব পরে পাগল হয়ে যায়। আমি গোপালদাকে বসুনিয়া সম্পর্কে লিখতে বললে তিনি কি এক অজানা আশঙ্কায় ঘাবড়ে যান।

আবু প্রান্তর

Write A Comment

error: Content is protected !!