‘…দেশের সংকটময় মূহূর্তে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না।…মা তুমি কেঁদো না। দেশের জন্য এটা খুব ন্যূনতম চেষ্টা…’ –

–শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী বীর প্রতীক।

আজ ৪ ডিসেম্বর শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী বীর প্রতীক এবং তাঁর সহযোদ্ধা শহীদ বাবুলের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। স্বাধীনতার মাত্র ১২ দিন আগে, একাত্তরের এইদিনে তাঁকে ও সহযোদ্ধা শহীদ বাবুল’কে রাজাকারদের সহায়তায় নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা।

১৯৭১ সালে একুশ বছর বয়সী, শহীদ আবদুল্লাহিল বাকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন। অসহযোগ আন্দোলন ও ২৫-২৬ মার্চের প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বাকী ৮ মার্চ গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) বোমা নিক্ষেপ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে একটি চিঠি লিখে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাড়ি জমান।

সেই চিঠিতে শহীদ বাকী লিখেছিলেন—

‘মা,

আপনি এবং বাসার সবাইকে সালাম জানিয়ে বলছি, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই ঢাকার আরও ২০টা যুবকের সাথে আমিও পথ ধরেছি ওপার বাংলায়। মা, তুমি কেঁদো না, দেশের জন্য এটা খুব ন্যূনতম চেষ্টা। মা, তুমি এ দেশ স্বাধীনের জন্য দোয়া করো। চিন্তা করো না, আমি ইনশা আল্লাহ বেঁচে আসব। আমি ৭ দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে পারি কি বেশিও লাগতে পারে। তোমার চরণ মা, করিব স্মরণ। আগামীতে সবার কুশল কামনা করে খোদা হাফেজ জানাচ্ছি।

তোমারই

বাকী (সাজু)’

(তাঁর স্বহস্তে লিখিত এই চিঠির মূল কপি সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে)

ভারতে গিয়ে শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী মেলাঘরে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মে মাসে কয়েক জনের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসেন। তাঁরা মতিঝিলের চার স্থানে এক যোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আবার ভারতে চলে যান। এরপর তিনি ভারতের চাকুলিয়ায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে যান। প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে বাকী বাংলাদেশে এসে বৃহত্তর ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।

শহীদ বাকী ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তিনি ইউনিট কমান্ডার ছিলেন। নভেম্বরের শেষ দিকে শহীদ বাকী তাঁর দল নিয়ে ঢাকা শহরের উপকণ্ঠেই অবস্থান করছিলেন। ৪ ডিসেম্বর রাতে কয়েকজন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি খিলগাঁওয়ে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় তাঁরা পাকিস্তানী সেনা ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের সামনে পড়ে যান।

পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার’রা তাঁদের গুলি করে।শহীদ বাকী ও তাঁর সহযোদ্ধারা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শহীদ বাকী ও তাঁর সহযোদ্ধা বাবুল’কে নৃশংস অত্যাচারের পর হাত- পা বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তাঁকে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।

আবদুল্লাহিল বাকী অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মো. আবদুল বারী। মা আমেনা খাতুন। ঠিকানা ২০৩/সি খিলগাঁও, ঢাকা। আব্দুল্লাহিল বাকীরা তিন ভাই ও চার বোন।

কৃতজ্ঞতা : গেরিলা ৭১

 

Write A Comment

error: Content is protected !!