পাকুরিয়াতে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় ১২৮ জন বাঙালীকে

0

যাঁদের রক্তে গড়া এই বাংলাদেশ, ১৯৭১ এর ২৮ আগস্ট তাঁদেরই ১২৮ জন শহীদের রক্তাক্ত প্রান্তর’, একটি রঙ জ্বলে যাওয়া পুরনো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে কথাগুলো। সাইনবোর্ডটি নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দেলুয়াবাড়ী বাজার থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ছোট পাকা রাস্তার শুরুতেই রয়েছে।

একাত্তরের  ২৮ আগস্ট দিনটি ছিল শনিবার, এদিন নওগাঁর আত্রাই নদীর তীরবর্তী মান্দা উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে ভোর এসেছিল বিভীষিকা হয়েই।

৪৮ বছর আগের এই দিনে সকাল আনুমানিক ৭ থেকে ৮ টার ভেতর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি দল পায়ে হেঁটে এই গ্রামে প্রবেশ করে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক হয়ে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকুরিয়া গ্রাম ঘিরে ফেলে তারা।

স্থানীয় রাজাকাররা মিটিঙের কথা বলে গ্রামবাসীদের ইউনাইটেড হাইস্কুল মাঠে (বর্তমান শহীদ বাজার) জড়ো করে। প্রায় সাড়ে তিনশত মানুষকে জড়ো করা হয়েছিল সেদিন, এর ভেতর একদম অল্প বয়সী ও অশতিপর বৃদ্ধ কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড় থেকে কঞ্চি কেটে সবাইকে বেধড়ক পেটানোর পর সারিবদ্ধভাবে দাঁর করানো হয় নিরীহ নিরপরাধ গ্রামবাসীদের।

মেশিনগানের বার্স্টফায়ারে মুহূর্তের ভেতর শহীদ হয়েছিলেন ১২৮ জন মুক্তিকামী নিরপরাধ বাঙালি, মাত্র ১৮ জন (মতান্তরে ১৭) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী কয়েক দিনের ব্যবধানে মারা যান আহতদের অনেকেই। সে সময় পাকুড়িয়া পরিণত হয়েছিল এক বিধবা পল্লীতে। যারা শরীরে বুলেটের চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন তাঁরাসহ স্থানীয়রা আজও সেই স্মৃতি মনে করে আঁতকে উঠেন। আজও কেঁদে ওঠেন হারানো স্বজনদের কথা মনে করে। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম নির্মম পৈশাচিক গণহত্যার একটি যা ‘পাকুড়িয়া গণহত্যা’ নামে পরিচিত।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাজারের নামকরণ হয় ‘শহীদ বাজার’। পুরো বধ্যভূমি ঘেরাও করে একটি সুদৃশ্য ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। নিচু ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা হয়েছে শহীদদের কবরের স্থান। তার পাশেই নতুন করে গড়ে উঠছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ যা নির্মাণাধীন।ফটকের দেয়ালে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লেখা রয়েছে ৭১ জন শহীদের নাম। অপর পাশে লেখা আছে আহত ১৮ জনের নাম। পাশেই এখনো সেই নির্মমতার সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে সেই দিনের রক্তস্নাত মাঠটি।

একাত্তরে আজকের দিনে শহীদ ১২৮ জনের চিরশান্তি প্রার্থনা করি পরম করুনাময়ের কাছে। লানত দেই পাকিস্তান ও পাকিস্তানী সেনাসদস্যদের, একইসাথে লানত দেই এই দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা পাকিস্তানী সেবাদাস’দের।

★★বিঃদ্রঃ (পাকুরিয়া গণহত্যা সম্পর্কে সরেজমিন গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে লিখে পাঠিয়েছেন আমাদের প্রিয় সুহৃদ মুশফিকুর রহমান। আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। মুশফিক কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী একজন মানুষ, তিনি অন্যান্য বহুজনের মতো লেখা দিচ্ছি, দেব বলে কালক্ষেপন করেননি। পাকুরিয়া গণহত্যার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাটি তুলে আনার জন্য আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই)

কৃতজ্ঞতা : গেরিলা ৭১

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!