দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বাম, ডান সবদিক থেকেই চলে আসছে। অজুহাত আর তাঁর গালভরা যুক্তিও মজুত আছে। সাম্প্রতিক যুক্তিটি হল, – “এলফাবেটিক্যালি আমাদের রাজ্য নাকি পিছিয়ে থাকে রাষ্ট্রের দরবারে। পার্লামেন্ট বা দেশের অন্যকোন গুরুত্বপূর্ন জায়গায় শেষে বক্তব্য রাখতে বাধ্য হয় অমনোযোগী শ্রোতাদের সামনে”। এ যেন ভোটে দাঁড়াবার জন্য নাম আর পদবীকে স্থান পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে বিশেষ সুবিধা লাভ করা। ভাবতে আশ্চর্য লাগে, এই ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি’কে সহায় করেই ডঃ বিধান চন্দ্র রায় বা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মত গভীর ব্যক্তিত্বেরা ভারতের তৎকালীন একছত্র প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সাথে যুঝে কি ভাবে রাজ্যের দাবীদাওয়ার কথা বলে প্রথম বেঞ্চ দখল করার চেষ্টা করতেন। আর এখন? আসলে, এই নাম পরিবর্তনের পিছনে আছে এক রাজনীতির সরল পাটিগণিত এবং তা একটি ইতিহাস বুলিয়ে দেবার চক্রান্ত। এবারে আসুন, একটুঁ পিছনে ফিরে সেই ইতিহাসের ধূলিধূসরিত পাণ্ডুলিপি দেখি তবে একবার।

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ‘সেফটি ভালব’ হিসেবে ১৮৮৫খ্রীঃ কংগ্রেস তৈরি হলেও জন্মলগ্ন থেকেই কংগ্রেস-ব্রিটিশ সম্পর্ক দুটি ভিন্ন ধারায় চলছিল। একটি ব্রিটিশ অধীনে থেকে কিছু স্বায়ত্তশাসনের সুবিধা আদায় ও অপরটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতাসহ স্বরাজ দখল। এই দ্বিতীয় ধারাটাই ব্রিটিশ প্রশাসনের টনক নাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য, এই দ্বিতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল বাংলা। তাই বাংলা তথা বাঙ্গালীর মাজা ভাঙ্গো!

কংগ্রেসের জন্মের দু’দশক পরে ১৯০৫’এ লর্ড কার্জনের কালে রিজলে সাহেবের প্রস্তাব মোতাবেক শাসন কার্যের সুবিধার অজুহাতে ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ। বস্তুত অবিভক্ত বাংলার ভৌগলিক অবস্থানেই পদ্মানদীর দু’পারে দুই বঙ্গের অস্তিত্ব বরাবরই সম্পুর্ন ভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে আবহমান কাল থেকেই বিরাজমান। পুর্ববঙ্গ মুসলিম প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু প্রধান। সুতরাং হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের জন্যেই কার্জনের এই বঙ্গভঙ্গ তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তথাপি, এই প্রস্তাবে কার্যত হিন্দুরা ক্ষুব্ধ, আর নতুন একটা মুসলিম প্রদেশের আশায় মুসলমানেরা মহা-উল্লসিত। রাজা রামমোহন রায়ের সংস্কারপন্থী আন্দোলন প্রাশ্চাত্য শিক্ষার দিকে হিন্দুদের এগিয়ে দিয়ে ব্রিটিশের স্থান দখল করতে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে সৈয়দ আহমেদ খানের প্রাশ্চাত্য শিক্ষার চর্চায় মুসলিম জাগরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও কার্জনের মস্তিষ্কপ্রসূত বঙ্গভঙ্গের ফলে এক নতুন মুসলিম প্রদেশযুক্ত মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী মুসলমান শ্রেনীর উদ্ভব ঘটায়, যা অচিরেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে কংগ্রেস বিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। তাই ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের দ্বারা বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহত হলেও বাংলার পূর্ব ও পশ্চিম ভৌগলিক খন্ডের যথাক্রমে হিন্দু ও মুসলিম মানসে বিভাজন সৃষ্টি হয়ে পড়ে। তবু কংগ্রেসের চরম ও নরমপন্থী আন্দোলন সহ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে পূর্ববঙ্গের ভূমিকা ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। ইতিমধ্যেই কার্জনের উৎসাহে গঠিত তার ‘fevourite wife’ ঢাকায় মুসলিম লীগের দৌলতে গান্ধীজীর খিলাফৎ সংযুক্ত অহিংস আন্দোলনও মুসলিম মননে কোন রেখাপাত করতে পারেনি।

ইতিমধ্যেই ১৯৩৭’এর নির্বাচন এসে গেল বাংলায়। তাতে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির দৌলতে মুসলিম লীগ বাংলায় ভালো ফল করতে পারল না। কিন্তু কংগ্রেসের আবুল কালাম আজাদের নীতি মুসলীম লীগকে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিল। কিছুকাল শ্যামা-হক মন্ত্রীসভা তা আটকে রাখলেও কংগ্রেস-ব্রিটিশ চক্রান্তে তা ব্যৰ্থ হয়ে বাংলা চলে যায় হকের হাত থেকে খাজা নাজিমুদ্দিনের হাত ঘুরে গভর্নরের শাসনাধীনে ১৯৪৬ এর নির্বাচনে। ইতিমধ্যেই গান্ধীঘনিষ্ট জিন্না, মুসলীম লীগের একচ্ছত্র নেতা হিসাবে লাহোর কনফারেন্সে কবি ইকবালের স্বপ্নের পাকিস্তান নামক এক মুসলীম স্থানের প্রস্তাব পাশ করেন। আর সেই মুসলীম স্থানের প্রতিষ্ঠার জন্যই ১৯৪৬-এর নির্বাচনে মুসলীম লীগ জয়ী হয় এবং এ বাংলায় লীগ সরকার স্থাপিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে ব্রিটিশের ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতেই নেহেরুর কংগ্রেসের রণক্লান্ত বয়োভারে নুব্জ নেতৃবৃন্দ, সি. আর দাস ফরমুলায় দেশভাগের মুক্তি খুঁজে পেলেও, জিন্না-ও মুসলীমস্থান পাকিস্তান আদায়ে হিন্দু বিরোধী শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ১৬ই অগষ্ট কলকাতা ও তার প্রতিক্রিয়া প্ৰতিশোধে ১০ই অক্টোবর নোয়াখালিতে দাঙ্গা শুরু করে কংগ্রেসকে উচিৎ শিক্ষা দিতে চায়, কেননা বাংলায় তখন লীগের নায়ক সুরাবর্দির সরকার। ইতিমধ্যে কলকাতার The Geat Calcutta Killings এর গল্প-গুজব নোয়াখলির ৮২:১৮ মুসলীম-হিন্দু জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে গঠিত সমাজে’র আকাশে-বাতাসে হিন্দু-বিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উজ্জীবিত করে তোলে লীগ নেতা গোলাম সরোয়ার, সঙ্গে খিদিরপুর ডক অঞ্চলের নোয়াখালিতে ফেরত আসা মুসলীম খালাসিদের মুখ ফেরত কলকাতার দাঙ্গা-গল্পকথা আগুনে ঘি ঢালতে থাকে।

কিন্তু নোয়াখালির সংখ্যালঘিষ্ঠ (বর্ণ) হিন্দুরা তবে যাবে কোথায়? ততদিনে তপশিলি ফেডারেশনের নেতা যোগেন মন্ডল, মুসলীম লীগের কোলে দোল খাচ্ছেন ভবিষ্যতের পাকিস্তানে লীগ মন্ত্রীসভায় মন্ত্রী হবার বাসনায়। উপরন্তু, নোয়াখালির সন্তান কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুজাফফর আহমেদ আন্তর্জাতিক সাম্যবাদের স্বপ্নে বিভোর। কংগ্রেসের হারানচন্দ্ৰ ঘোষচৌধুরী অবিভক্ত স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখছেন তন্ময় হয়ে, ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্ৰ গুহরায় নেতাজী’র পথ চেয়ে বসে আছেন; আরএস পি’র মাখন পাল, অশোক চৌধুরী প্রমুখ শ্রেনীহীন সমাজের লক্ষে অটল, – তাই আসন্ন নোয়াখালী গণহত্যা তাদের চোখে ধরা পড়েনি। সেই সংকটকালে নোয়াখালির হিন্দুদের পাশে একমাত্র এগিয়ে এলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখাজী (হিন্দু মহাসভার সভাপতি) এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রনবানন্দজী মহারাজ।

প্রনবানন্দজী মহারাজ হিন্দুদের ‘অভিঃ’ মন্ত্রে দীক্ষিত করতে ‘রায়বাহাদুর’ হেমচন্দ্র রায়চৌধুরীর জমিদারীতে এসে শহর পরিক্রমা করেন। আর ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী একই কাজ করেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি ও নোয়াখালী বারের সভাপতি ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর জমিদারীতে। তবুও সংখ্যালঘিষ্ট হিন্দুদের রক্ষা করা যায় নি। ১০ই অক্টোবর কোজাগরী লক্ষীপূজার দিন মুসলিম লীগ প্রবল প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর জমিদারীতে এক গণহত্যার দ্বারা ইতিহাস কুখ্যাত নোয়াখালীর হিন্দুমেধ যজ্ঞ শুরু করে। এরপর নোয়াখালী ও ত্রিপুরে জুড়ে চলে লুঠ, ধর্ষণ, ধর্মান্তর, বিবাহ, হত্যা ইত্যাদি। চট্টগ্রামের নোয়াখালির মাটিতে বিচিত্র ধারার রাজনৈতিক আদর্শ লালিত-পালিত-চর্চিত হওয়া সত্ত্বেও সমাজটা কি ভাবে কয়েক মাস-বছরের মধ্যে হিন্দু-মুসলমানে বিভক্ত হয়ে গেল তা সত্যিই গবেষণার বিষয়; কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের হাতে আক্রান্ত হিন্দুদের রক্ষা করতে সেদিন সত্যিই কোন মুসলমান এগিয়ে আসেনি। কেউ হিন্দুদের বলেনি, “তোমরা এই দেশ ছেড়ে যেওনা; আমরা তোমাদের রক্ষা করব”। আবার উলটোদিকে মুসলমান জমিদারেরাও তাদের হাতে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তাই নোয়াখালির দাঙ্গায় নিছক বহিরাগত গুন্ডাতত্ত্ব বা শ্রেনী শোষনের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের বামপন্থী তত্ত্ব, নোয়াখালীর সাম্প্রদায়ীক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান থেকে সাহসের অভাবে পালিয়ে যাবার সামিল। নোয়াখালীর সমস্যার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন দাঙ্গার প্রথম শহিদ ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর ছোট ভাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামীক-অধ্যাপক; ঐতিহাসিক ডঃ মাখনলাল রায়চৌধুরী ওরফে মৌলানা মাখনলাল। তাঁর মতে, “মুসলামানরা সমস্ত নোয়াখালিকেই দার-উল-হার্ব থেকে দার-উল-ইসলামে রুপান্তরিত করতে চেয়েছিল। তাই ওরা বেছে বেছে এমন লোকদেরই প্রথম আক্রমণ করেছিল যারা ওদের বাধা দিতে পারতেন। আমাদের পরিবারের সকলের মৃত্যুর এটাই ছিল একমাত্র কারণ।”

খুব স্পষ্টভাবে বলতে গেলে নোয়াখালির সাম্প্রদায়িকতা ছিল লীগ নেতৃত্বাধীন মুসলমানদের আদর্শগত কারণে উত্তরণ। তাই নোয়াখালি এক রাজনৈতিক শিক্ষা, যে শিক্ষায় সত্যাগ্ৰহী গান্ধীজির অহিংস শান্তিবারি যাত্রা হার মেনেছিল; যে শিক্ষা সুচেতা কৃপালনী, স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে নোয়াখালিতে ধৰ্ষিতা হবার ভয়ে পটাশিয়াম সায়নাইড ক্যাপসুল সঙ্গে রাখতে শিখিয়েছিল এবং বলিয়েছিল কংগ্রেসের সভাপতি আচাৰ্য্য কৃপলনীকে : “আমি যদিও সম্পূর্ণ অহিংসায় বিশ্বাসী, তা সত্ত্বেও ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। প্রত্যেক বাঙালীর সামনে আমি রাজেন্দ্রলাল ও তার পরিবারের কথা উদাহরণ স্বরূপ তুলে ধরতে চাই যারা দুদিন ধরে লড়াই করে আক্রমণকারী উন্মত্ত জনতাকে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন।” নোয়াখালিতে অহিংস নীতি ব্যৰ্থ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার কাছে; আর, সহিংস নীতি ব্যর্থ হয়েছিল জনবিন্যাসের আনুপাতিক হারের আকাশ-পাতাল ব্যবধানের কারণে। যাহোক, নোয়াখালির প্রতিক্রিয়া বিহার সহ ভারতের অপরাপর রাজ্যে দেখা দিলে এই সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান সূত্র জাতীয় নেতৃবৃন্দ দেশভাগ অথাৎ ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যেই খুঁজে পেল। তাই দেশভাগ আসন্ন হলে হিন্দু-বাঙালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দেয়। কেননা মুসলীম লীগের প্রস্তাবিত পাকিস্তানে ছিল সমগ্র বাংলা ও পাঞ্জাব। তাই বাংলা ভাগ চাই-ই চাই।

অতয়েব, যে হিন্দু বাঙালী একদিন কার্জনের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছিল, তারাই এখন বাংলাভাগ তথা পাকিস্তান ভাগের পক্ষে আবার রাস্তায়! মুসলীম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিয়ে পাকিস্তান হলে হিন্দু গরিষ্ঠ অংশ কেন হিন্দুস্তান তথা পশ্চিমবঙ্গ নয়? সুতরাং শুরু হল হিন্দু বাঙালীস্থান পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাংলা ভাগের আন্দোলন। এই বাংলাভাগের আন্দোলন ছিল প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান ভাগের আন্দোলন-ই। সেই আন্দোলনের নেতা, হিন্দু, মহাসভার ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখাজী, নির্মল চন্দ্র চ্যাটাজী, ডঃ মাখনলাল রায়চৌধুরী ওরফে মৌলানা মাখনলাল, (ডঃ মুখাজীর ডান হাত) প্রমুখ। তাদের এই হিন্দু বাঙালীস্থান পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাংলা তথা বৃহত্তম পাকিস্তান ভাগের আন্দোলন শীঘ্রই সাইক্লোনের আকার নিয়ে সুরাবর্দি, শরৎ বোস, কিরণশঙ্কর রায় প্রমুখের স্বাধীন যুক্ত বঙ্গের দাবী অচীরেই ধূলিসাৎ করে দেয়। হিন্দু মহাসভার তারকেশ্বরে তিনদিন ব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনে অর্থাৎ ১৯৪৭ এর ৬’ই এপ্রিল, রবিবারে এক বিশাল মহতি জনসভায় বাংলাভাগের মূল প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সনৎকুমার রায়চৌধুরী ও তা সমর্থন করেন ঢাকার সূর্যকুমার বসু। উল্লেখ্য সনৎকুমার রায়চৌধুরী নোয়াখালী দাঙ্গার শহীদ দাদা ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর স্মৃতিতে লক্ষ্মীপুরে দাঙ্গা দূর্গতদের চিকিৎসার জন্য একটা হাঁসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন। যাহোক বাংলা ভাগের প্রস্তাব গৃহীত হবার পরে বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেসও অনুরূপ প্রস্তাব পাশ করে ও ডঃ বিধানচন্দ্র রায় প্রমুখ দেশবরেণ্যরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’কে চাপ দিয়ে বাংলাভাগে সহমত হতে বাধ্য করেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী

অবশেষে আসে সে মহেন্দ্রক্ষন, অবিভক্ত বঙ্গের বিধানসভার শেষ অধিবেশন। হিন্দুদের ভোট বাঙ্গলাভাগ তথা পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে আর মুসলমানদের ভোট বিপক্ষে ভবিষ্যতের ‘বৃহত্তম পাকিস্তানের’ জন্য। পশ্চিমবঙ্গ স্বাধীন ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য আর পূর্ববঙ্গ পূর্ব পাকিস্তান। সেদিনের এই দুরদর্শিতার জন্য হিন্দু বাঙ্গালীকে হায়দ্রাবাদের নিজামি শাসনের মত পরাধীন হয়ে কোনদিনই থাকতে হয় নি; আবার মুসলীম লীগের সাম্প্রদায়িক শাসন থেকেও মুক্ত হতে পেরেছিল আর অন্যদিকে জিন্নাকে ‘পোকায় খাওয়া’ পাকিস্তান নিয়েই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জিন্না, সুরাবর্দী প্রমুখের হতাশাব্যাঞ্জক প্রতিক্রিয়া পড়লে জানা যায়, তাদের ষড়যন্ত্র কতটা গভীর ছিল! জিন্নার পাকিস্তান যেমন সেকুলার থাকতে পারে নি তেমনি পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হয়েও ইসলামিক দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানেই বাংলাভাগের সার্থক ইতিহাস। আর এখন এখানকার রাজনীতিতে করে কম্মে খেতে পারা লোকেরা এই ইতিহাস’কে ভুলিয়ে দিতে গেলেই হবে?

রাজ্যের নাম পরিবর্তনের পিছনের পাটিগণিত তো এখানেই লুকিয়ে! মুসলীম ভোট যে বড় বালাই!! পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টির ইতিহাস যাতে কেউ কখনও মনে না রাখে, মুখার্জী-চ্যাটার্জী-বসু-রায়চৌধুরী প্ৰমুখদের এই সৃষ্টির অবদান যেন সবাই ভুলে যায় তাড়াতাড়ি; হিন্দু ভোটারদের যেন কানে না বাজে যে, পশ্চিমবঙ্গ মুসলীম লীগের শাসন প্ৰসূত ইতিহাসের এক চূড়ান্ত গতিধারা। কিছু বোঝা গেল ?

বাস্তবিকই ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি হল মুসলীম লীগের বিরুদ্ধে এক বিজয় স্মারক,- হিন্দু জয়তিলক। তাই এটিকে নিছক নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিদের নাম্বার গেম-এর কুনাট্যে কিছুতেই মুছতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক চলুক – সত্য জানুক সকলে। যেমন যোগেন মণ্ডল জেনেছিলেন ১৯৫০’এ তাঁর লীগ মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে।

বাংলাভাগে তারকেশ্বর সম্মেলনের গুরুত্বঃ

প্রকৃতপক্ষে ১৯৪৬ সালের ১০ই অক্টোবরের কুখ্যাত নোয়াখালীর হিন্দু গণহত্যা, যার সূত্রপাত হয়েছিল ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর জমিদারীতে এক নারকীয় গণহত্যার মধ্য দিয়ে। এর পর পরই হিন্দু-বাঙ্গালীদের ভবিষ্যতের পাকিস্তানে নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করে ১৯৪৭-এর ফেব্রুয়ারিতেই হিন্দু মহাসভা বাংলার হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করে জেলায় জেলায় আন্দোলন শুরু করে, কেননা দেশভাগ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তখন। এরপর ৪,৫ ও ৬’ই এপ্রিল ১৯৪৭’এর শুক্র, শনি ও রবি – এই তিনদিন ধরে নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভার তারকেশ্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রীত হয়ে উপস্থিত ছিলেন এই বাংলা তথা পাকিস্তান ভাগ আন্দোলনের প্রানপুরুষ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী; (বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখার্জীর বাচ্চা), ইসলামিক ঐতিহাসিক ও ডঃ মুখার্জীর ডানহাত ডঃ মাখনলাল রায়চৌধুরী ওরফে ‘মৌলনা মাখনলাল’, ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর ছোটভাই (লেখকের ছোট ঠাকুর’দা) প্রমুখ সহ বিশিষ্ট হিন্দু-বাঙ্গালীরা। সেখানে শ্রী চট্টোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বলেন, “যেহেতু মুসলিম লীগ বাংলাদেশে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর, সেই জন্য হিন্দুরাও বাংলায় একটি শক্তিশালী জাতীয় সরকারের (ভারত সরকারের?) অধীনে পৃথক প্রদেশ গঠন করবে। বাঙ্গালী হিন্দুদের নিকট এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন। যদি হিন্দুদের পছন্দমত কোন শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে তাদের হিন্দু বিরোধী সাম্প্রদায়িক শাসনের অধীনে চিরকাল দাসত্বের জীবনযাপন করতে হবে। তাই আমরা বঙ্গভঙ্গ মারফৎ হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক মাতৃভূমি চাই”।

পরের দিন অর্থাৎ ৫’ই এপ্রিল ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পূবদিকের হিন্দু বাঙ্গালীদের জন্য বাংলাভাগের আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, – “ I can conceive of no other solution of the communal problem in Bengal than to divide the province.”

উল্লেখ্য, বাংলার ঘোর সাম্প্রদায়িক সমস্যার জন্যেই তিনি উভয় বঙ্গ থেকেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু জন-বিনিময়ের কথা বলেন। প্রসঙ্গত বলা যায়, পাঞ্জাবেও বাংলার মত সমস্যা দেখা দিলে সেখানে পাঞ্জাব ভাগের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জন-বিনিময় সুষ্ঠভাবেই হয়েছিল। ফলে, উভয় পাঞ্জাবই সাম্প্রদায়িক সমস্যা থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু বাংলা ভাগের পর সংখ্যালঘু জন-বিনিময় না হওয়ায় পূর্ব-পাকিস্তান, অধুনা বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্টের সাম্প্রদায়িক আস্ফালনে এথেনিক ক্লিনজিং অবিরাম চলতে থাকে, যা থেকে আজও তারা মুক্ত হতে পারে নি।

সম্মেলনের শেষের দিন অর্থাৎ ৬ই এপ্রিল এক বিশাল হিন্দু-বাঙ্গালীদের মহতী জনসভায় বাংলাভাগ তথা মুসলীম লীগের প্রস্তাবিত সমগ্র বাংলা সহ পাকিস্তান ভাগের মূল প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন আমাদের বাড়ির সনৎকুমার রায়চৌধুরী ও তাকে সমৰ্থন করেন ঢাকার সূৰ্যকুমার বসু সহ উপস্থিত বিপুল হিন্দু-বাঙ্গালী জনতা। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, সনৎকুমার রায়চৌধুরী, তাঁর দাদা ‘রায়সাহেব’ রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরী, নোয়াখালি দাঙ্গার প্রথম শহিদ নোয়াখালি বার ও হিন্দু মহাসভার সভাপতি,-এর স্মৃতিতে দাঙ্গায় আহতদের চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুরে তাঁর নামাঙ্কিত একটি হাঁসপাতাল তৈরি করেছিলেন।

তারকেশ্বর সম্মেলন প্রসঙ্গে ১২’ই এপ্রিল ছোটলাট ব্যারোজ, বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন’কে এক গোপন চিঠিতে লেখেন : “The movement of partitioning Bengal…….continuous to gather strength……. t was emphasised that the new province should we constituted before, the British Govt. transferred power.” আবার ঠিক একই সময়েই বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির কার্যকরী সমিতি হিন্দু-বাঙ্গালীদের স্বার্থে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অমান্য করে বাংলাভাগের স্বপক্ষে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু মহাসভা ও বাংলার কংগ্রেসের কট্টর হিন্দুপন্থীদের নেতৃত্বে এক হার-না-মানা আন্দোলন শুরু হয় এবং এই আন্দোলন এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে হিন্দু মহাসভা দাবী করে বসে যে, যদি পাকিস্তান নাও হয় তবুও বাংলার হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলিকে একত্রিত করে একটি হিন্দু বাঙ্গালীর স্বভূমি-প্রদেশ গঠন করতে হবে। যেমন সংখ্যালঘু মুসলমানরা ভারতে সেফগার্ড খুঁজছিল, তেমনই সেই একই যুক্তিতে বাংলার হিন্দু-বাঙ্গালীরাও খুঁজছিল একটি স্বভূমি। সেই সময় দি স্টেটসম্যান ও অমৃতবাজার পত্রিকা বাংলাভাগের উপরে জনমত যাচাই করে ইতিবাচক সাড়া পায়।

এরপর আসে। ২০শে জুন, ১৯৪৭। বাংলা বিধানসভায় মুসলীম লীগ সরকারের সৃষ্ট বাঙ্গালী নিধনকারী, দুর্ভিক্ষ ও দাঙ্গার প্রত্যুত্তরে ভবিষ্যতের পাকিস্তান তথা বাংলা ভাগের আন্দোলনের সফল রূপায়ণ হিন্দু প্ৰতিনিধিরা হিন্দু বাঙালী স্থান পশ্চিমবঙ্গের অর্থাৎ বাংলাভাগের পক্ষে ও মুসলীম প্রতিনিধিরা মুসলীম স্থান ভবিষ্যতের পাকিস্তানের আশায় ও পক্ষে ভোট দেয়। উল্লেখ্য, বঙ্গীয় আইন সভার হিন্দু মহাসভার ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটিমাত্র আসন সম্বল করে মুসলীম লীগের মুসলীম স্থান পাকিস্তানের জন্য কলকাতা-নোয়াখালীর হিন্দু রক্তে রাঙ্গানো অধ্যায়ের শেষ অঙ্কে কেবল হিম্মতের জোরে একটা পৃথক হিন্দু বাঙ্গালীস্থান ‘Homeland’ হিন্দুপ্রধান অঞ্চলগুলিকে নিয়ে আদায় করে নেওয়া চাট্টিখানি কথা ছিল না।

একটা সময়ে কংগ্রেস ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর বাংলাভাগের আন্দোলনকে the cause of Pakistan বলে সমালোচনা করলে, তিনি জবাবে উত্তর দিয়েছিলেন We are against Pakistan in any shape or form … তবে, … if an attempt is made to place Bengal out of the Indian Union,… We shall at any rate break the solidarity of Eastern Pakistan to save our area of Bengal and link it up with the Indian Union.

এর থেকেই বোঝা যায় যে, সে সময় সমস্ত বাংলাকে পাকিস্তান করার একটা ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল। গান্ধীজীকে ডঃ মুখার্জী What was there to this united sovereign Bengal from seeking voluntary alliance with Pakistan? – জিজ্ঞাসা করে তাঁকে নিরুত্তর করে দিয়েছিলেন। আবার স্বাধীন বাংলা পাকিস্তানে যোগ দেবে কিনা – গান্ধীর এ প্রশ্ন দাঙ্গার নায়ক মুসলীম লীগের সুরাবর্দীকে নিরুত্তর করে দিয়েছিল। বুঝুন তবে?

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, His Majestic’s Govt. এর বিবৃতির (৩’রা জুন, ৪৭) ৫-৯ অনুচ্ছেদে প্রদেশভাগ সম্পর্কে উল্লিখিত সূত্র অনুযায়ী ১৯৪১ সালের লোকগণনা অনুসারে স্থিরীকৃত হয় মোট ষোলটি মুসলিম প্রধান ও বাকি হিন্দু প্রধান জেলার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাংলাভাগের বিষয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে অংশ নেবে। সেই অনুযায়ী বিধানসভার যৌথ অধিবেশনে ১১৬:৯০ ভোটের ব্যাবধানে স্থির হয় যে, যদি বাংলা প্রদেশটি ভাগ না হয়, তাহলে সে পাকিস্তান সংবিধান সভায় যোগ দেবে। এরপর হিন্দু প্রধান এলাকার প্রতিনিধিরা বিধানসভার নির্দিষ্ট কক্ষে বসে ৫৮-২১ ভোটের ব্যাবধানে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে Homeland for Hindu Bengali – দের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি করে। এরপর মুসলিম সদস্যরা নির্দিষ্ট কক্ষে বসে ১০৬:৩৫ ভোটের ব্যবধানে বাংলাভাগের পক্ষে মতদান করে। তবে এও ঠিক হয় প্রদেশ বিভাগ অনিবার্য্য হলে ১০৭:৩৪ ভোটের ব্যাবধানে পুর্ববঙ্গ পাকিস্তানে যোগ দেবে। এই রূপে বাংলাভাগের ভোটাভুটি দেশভাগের চূড়ান্ত পূর্বেই ঘটেছিল ৩’রা জুন-৪৭ এর সরকারী ঘোষনার মাত্র সতেরো দিনের মধ্যেই, কেননা হিন্দু-মুসলমান এই দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে ইন্ডিয়া-পাকিস্তান একপ্রকার ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। এবার বাকি কাজ ছিল শুধু সীমানা কমিশনের।

অবশ্য বাংলা ভাগের চূড়ান্ত ভোটাভুটির মধ্যেই স্বাধীন যুক্তবঙ্গ রাজ্যের সুরাবর্দীর টোপ শরৎচন্দ্র বোস, কিরণশঙ্কর রায়, আবুল হাসেম প্রমুখেরা গিলে ফেলেছিল। যদিও এ ধরনের প্রস্তাব ছিল নিতান্তই ব্যক্তিগত উদ্যোগ, এতে ছিল না প্রদেশ কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা বা মুসলীম লীগের সম্মতি এবং যুক্ত বঙ্গের রূপরেখায় নামকরণও করা হয়েছিল ‘আজাদ পাকিস্তান’ নামে। ফলত হিন্দুরা শঙ্কিত হয়ে এর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে বাংলা ভাগকে ত্বরান্বিত করে তোলে।

তাই আজকের বাম-দা, ডান-দি ও সর্বোপরি তাসের দেশে হরতন-রুইতন-চিরিতন-ইস্কাবন সেকুলার গল্পদাদুর আসরে বসা বুদ্ধিজীবীরা এই ইতিহাসটা জানুন ও জানান; নয়তো যে অজ্ঞতার আশির্বাদ নিয়ে বৈভব গড়েছেন, তা জলাঞ্জলী যাবে না তো? জিন্নার সৃষ্ট মুসলিম স্থান পাকিস্তান বা পূর্ব পাকিস্তান ও অধুনা বাংলাদেশ সেকুলার থাকতে পারল না। ওখানে যান, সেকুলারের জয়গান গান! ওদিকে আজ আপনাদের বড়োই প্রয়োজন। এই পশ্চিমবঙ্গে বসে সেকুলারের নামাবলি যে গায়ে চড়িয়েছেন, তা পেয়েছেন নোয়াখালীর ৪৬’এর শ্মশান ভূমি থেকে; কেননা, নোয়াখালীর শিক্ষায় আলোকিতজনেরাই আপনাদের থাকার জায়গাটুকু করে দিয়েছেন। অজ্ঞানতার আশীর্বাদ নিয়ে গজদন্ত মিনারে বসে নাম্বার গেম-এ মেতে মানুষকে ইতিহাস ভুলিয়ে দেবেন না। একবার সবাইকে নিয়ে তাকান। বর্তমানে পাকিস্তানে, বাংলাদেশে ও ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গে – তফাৎ’টি বুঝতে পারবেন; ও অন্যদেরও বোঝাতে পারবেন। ইতিহাসের শিক্ষাই এইটি, কেননা “মানুষ ইতিহাস তৈরি করে আবার ইতিহাসের গতিধারা মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে”।

হে অতীত – কথা কও …।

তথ্যসূত্রঃ

১.শ্যামাপ্রসাদ বঙ্গবিভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ: ডঃ দীনেশচন্দ্র সিংহ।
২.বাঙ্গালীর পরিত্রাতা শ্যামাপ্রসাদ।ক্ষমতা হস্তান্তর ও ভারতবিভাগঃ লাডলিমোহন রায়চৌধুরী

Write A Comment

error: Content is protected !!