(১)
১৫ই আগস্ট নিয়ে কোন পোষ্ট লিখতে ইচ্ছে করে না। কেন করে না? ইচ্ছে করে না- কেন করে না সেটা আমি অনেকবার ভেবেছি। একেকবার একেক কারণ সামনে এসে দাঁড়ায়। আবার কোন কারণই ঠিক যুতসই মনে হয় না। কখনো একটা বিষাদময় গ্লানি এসে ভর করে। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে ওরাও বাঙালী, আর আমিও বাঙালী- এটা ভাবতেই একরকম গ্লানি হয়। এই বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিতে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়িয়েছে, আমাদের দেশের এমপি হয়েছে, বিরোধী দলের নেতাও হয়েছে। কেমন লাগে ভাবতে!

একসময় ১৫ই আগস্ট এলে বাঙালী সকলে মিলে শোকটাও পালন করতে পারেনি। এই ঢাকা শহরেই কেবল নয়, দেশের ছোট বড় সব শহর বন্দর গঞ্জে হাটে ১৫ই আগস্টে শোক দিবস পালন করতে গেলে কিছু লোকজন এসে বাঁধা দিতে চাইতো। কতবার ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ১৬ই আগস্টের অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এই বাঙলা নামক দেশেই। ভাবতে পারেন!

আর একদল লোক ১৫ই আগস্টে উৎসব করতো। এই বাংলাদেশেই। কারা করতো? কারা করতো ওদেরকে আপনারা চেনেন, জানেন। ওদের অনেকেই এসে পরে আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়েছে। একজন দুইজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কিইবা লাভ বলেন। এই আমি, এই দেশের একজন পঞ্চাশোর্ধ সাধারণ নাগরিক- যার বড় হওয়াটা হয়েছে বহুলাংশে বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে- আমিই দেখেছি আমাদের সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া এক নম্বর খবরের কাগজটাতে বছরের পর বছর ১৫ই আগস্টে শোক দিবসের অনুষ্ঠান আর খুনি ও খুনির সমর্থকদের তথাকথিত নাজাত দিবসের অনুষ্ঠানের খবর সমান গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে।

একটু সান্ত্বনা পাই এই ভেবে যে দেরিতে হলেও বিচার তো হয়েছে। শাস্তি হয়েছে খুনিদের।

(২)
আমাদের বড় হওয়ার সময়টাতে আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধুকে নেতিবাচক একটি চরিত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম থেকে শুরু করে শফিউল আলম প্রধানের মত রাজনৈতিক লুম্পেন ক্যারেক্টারগুলি কি সব কথাই না বলেছে। শফিউল আলম প্রধান বা ঐরকম ক্যারেক্টারগুলির কথা না হয় বাদই দিলাম। এখন আমরা যাদেরকে অনেক ইস্যুতেই রাজনৈতিক মিত্র মনে করি- চীনপন্থিরা, মওলানা ভাসানির অনুসারীরা, জাসদের লোকজন, এরা কি করেছে? এইসব চরিত্রের কথা বলে মুখ নষ্ট করবো না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

আপনাদের মনে কোন সংশয় থাকলে ১৯৭৫এর পরে বছরগুলির, বিশেষ করে ৭৭এ ঘরোয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হওয়ার পরের সময়টার খবরের কাগজ খুলে দেখে নিতে পারেন। বেশী কষ্ট করতে হবে না, এর পরেরবার আপনি যখন পাবলিক লাইব্রেরীতে যাবেন, ওদেরকে বললেই ওরা আপনাকে ৭৭, ৭৮ বা ৭৯র ১৬ই আগস্টের খবরের কাগজ বের করে দিবে। ইত্তেফাক দেখতে পারলে পুরো চিত্র পাবেন। অথবা দৈনিক বাঙলাও দেখতে পারেন। সেটাও আপনাকে মোটামুটি একটা চিত্র দেবে। তরুণ বন্ধুরা এই এক্সারসাইজটা করে দেখবেন। চোখ খুলে যাবে।

অনেকগুলি বছর এইরকম চলেছে। অনেকগুলি বছর। একটি জাতির জীবনে পনের বা বিশ বছর হয়তো সেরকম বড় কোন সময় না। কিন্তু একজন মানুষের জীবনে এটা একটা দীর্ঘ সময়। একটা প্রজন্ম পার হয়ে যায় এই সময়ের মধ্যে। আমরা হচ্ছি সেই প্রজন্ম যারা এইসব দেখে দেখে বড় হয়েছি। কিন্তু এইসবের মধ্যেও আমাদের ভালোবাসা ঠিকই বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেছে। আমরা আমাদের বুকের ভেতর সকল বিষাদ সকল গ্লানি সকল অপরাধ বোধের সাথে যেরকম বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেছি, একই সাথে আবার বঙ্গবন্ধুতেই আমাদের আমাদের দেশপ্রেম, জাতি হিসাবে আমাদের বিকাশের দিক নির্দেশনা খুঁজেছি।

(৩)
বাঙালীর জীবনে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড় আর কি আছে? কিছু নাই। কেননা বাঙালী যে একটি জাতি হতে পারে, ধর্মীয় পরিচয় ইত্যাদির ঊর্ধ্বে বাঙালী যে কেবল বাঙালী পরিচয়েই একটি জাতি রাষ্ট্র গঠন করতে পারে সেকথা আমাদের এই বামন জাতির মধ্যে এই আকাশছোঁয়া দীর্ঘদেহী লোকটি ছাড়া আর কে ভেবেছে? কেউ না। হাজার বছরের ইতিহাসে কেউই এটা ভাবেনি।

আমি জানি জাতীয়তাবাদ কোন জনগোষ্ঠীর মুক্তির পথ নয়- উগ্র জাতীয়তাবাদ বরং উল্টা ফ্যাসিজমের জন্ম দিতে পারে। সে সবই সত্যি। এমনকি আমাদের মত এইরকম জাতিরাষ্ট্র সেটিও অনিবার্য পছন্দ কিনা সেটা নিয়েও রাজনীতিবিজ্ঞানীরা অনেকেই নাকি প্রশ্ন করেন। করুক। সেগুলি বিতর্ক যার যার জায়গায়- সেগুলি বিতর্ক উড়িয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু জেতা ঘটেছে সেটা তো আপনাকে মানতেই হবে। কি ঘটেছে আমাদের এই জনপদে? বাঙালী পরিচয়ের একদল মানুষ ওদের নিজেদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। আর সেই পরিচয়ে একটা রাষ্ট্রই বানিয়ে ফেলেছে।

এই কাজটাতেই নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। কোন কাজটা? যে আমরা একটি জাতি- একটি স্বতন্ত্র জাতি। বাঙলার হিন্দু বাঙলার বৌদ্ধ বাঙলার খৃস্টান বাঙলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালী। যে তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা। এই কথাটা বাঙালির হয়ে আগে কখনো কেউ সেইভাবে বলেনি। বঙ্গবন্ধুই সেই কথাটা নিয়ে এসেছেন আমাদের সামনে।

না, আমি এটা বলছি না যে ইতিহাসটা বঙ্গবন্ধুই তৈরি করেছেন। সেটা কখনো হয় না। ইতিহাসের অনিবার্য গন্তব্যই হয়তো ছিল বাঙালি জাতি ওদের নিজেদের জন্যে একটি রাষ্ট্র গঠন করবে। ইতিহাসের সেই মোড়ে এসে বঙ্গবন্ধু সেই বিষয়টা চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন- সেই কথাটা মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। সেই অর্থে ইতিহাসই বঙ্গবন্ধুকে তৈরি করেছে বলতে পারেন। ইতিহাসই তাকে তৈরি করুক আর তিনিই ইতিহাস তৈরি করুণ- বাঙালি জাতির জন্মের ইতিহাস আর বঙ্গবন্ধু এখন আমাদের কাছে এক হয়ে গেছে।

(৪)
বঙ্গবন্ধু যখন এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথাটা- তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি- বাঙালীর জন্যে আলাদা পরিচয় বাঙালীর স্বায়ত্বশাসন এইসবের কথা বলছেন, তখন কিন্তু তিনি অতো বড় নেতা ছিলেন না। না, বড় নেতা ছিলেন বটে, কিন্তু তার চেয়েও বড় বড় বাংলাই রাজনৈতিক নেতা তখন মাঠে দোর্দণ্ড প্রতাপে বিরাজ করছিলেন। এমনকি তার নিজের দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও তিনি শীর্ষ নেতা ছিলেন না। তাঁর দলের বড় বড় নেতারাও সকলে তাঁর মত করে বাঙালীর প্রাণের দাবীটা আর বাঙালীর হৃদস্পন্দনটা ধরতে পারেননি। সময়ের সুরটা তখন কেবল বঙ্গবন্ধুই চিহ্নিত করেছিলেন।

ফলত কাজটা বঙ্গবন্ধুর জন্যে সহজ ছিল না। ছেষট্টিতে ছয় দফা দেয়ার পরে বঙ্গবন্ধু যখন কথাগুলি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছেন কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। ষাটের দোষকে যারা ছাত্র রাজনীতি করতেন বা অন্য কোনভাবে রাজনীতির খোঁজখবর রাখতেন ওদেরকে জিজ্ঞাসা করলে আপনি সেসময়ে রাজনীতির মাঠের বাস্তব অবস্থার চিত্রটা জানতে পারবেন। বঙ্গবন্ধু তখন খুব বেশী জনপ্রিয় বড় নেতা ছিলেন না। শুরুতে জনগণের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান নামটা সেরকম সাড়া জাগাত না।

সেসময় ঢাকা শহরে হাজারখানেক মানুষের একটা জনসভা করতে হলে বঙ্গবন্ধুর জন্যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। উল্টা দিকে মওলানা ভাসানি দুই ঘণ্টা নোটিশে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সভা করতেই চাইলেই হাজার মানুষ জমে যেতো। ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে এরকম অনেক নেতা ছিলেন যারা ৬৭ বা ৬৮ সনে জমায়েতের ক্ষমতা বিচারে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অনেক বড় ছিলেন। এটা শুধু ঢাকা শহরেই না, সাড়া দেশেরই চিত্র ছিল।

একটা ঘটনা বলি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গেছেন বঙ্গবন্ধু জনসভা করতে, লোক জড়ো করতে পারছেন না। আর সেইদিন একই সময়ে শ্রমিক নেতা আবুল বাশার জনসভা ডেকেছেন সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল।

(৫)
এইখানটায় আমাদের সকলের শিক্ষার বিষয়টা- এমনকি আজকের আওয়ামী লীগেরও।

বঙ্গবন্ধু সঠিক কর্মসূচী সঠিক দাবী দাওয়া নিয়ে মানুষের কাছে গেছেন। মাত দুই দশক আগে পাকিস্তান নামক যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই রাষ্ট্রটির অসারত্ব তুলে ধরছেন মানুষের কাছে। মুসলিম পরিচয়ে যে জনগোষ্ঠীটি নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করেছিল, ওদেরকেই বলছেন যে না, জাতী হিসাবে আমরা মুসলিম নই, আমরা বাঙালী। এটা তো চট করে মানুষের হজম হওয়ার কথা না। কিন্তু তিনি সরাসরি হোক, পরোক্ষভাবে হোক, কথাটা নিয়ে গেছেন। মানুষকে বাঙালী পরিচয়েই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্যে ডাক দিয়েছেন।

বাঙালী কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আহ্বানটা শুনেছে। সামরিক শাসকদের অত্যাচার নিগ্রহ তো ছিলই- বঙ্গবন্ধু আজ জেলে যাচ্ছেন তো কাল বের হচ্ছেন আবার জেলে যাচ্ছেন এই অবস্থা চলছিল। সাথে রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধিতাও ছিল। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু অবিচল নিষ্ঠায় তাঁর কথাটা বাঙালীর ঘরে ঘরে নিয়ে গেছেন, বাঙালী তাঁর কথাটা গ্রহণ করেছে এবং তাকেও নেতা হিসাবে গ্রহণ করেছে। তাঁর কথাটা কি? ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয়টার বিপরীতে বাঙালী পরিচয়ে জাতীয়তা। সেই থেকেই আমাদের বাঙালী জাতীয়তাবাদ, সেই থেকেই আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র।

শিক্ষাটা কি? শিক্ষাটা হচ্ছে রাজনীতিবিদের কাজ হচ্ছে তার মতামতটা, তিনি কি চান কি করতে চান সেটা জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া। নিজের নীতিটা জনগণের সামনে তুলে ধরা, ব্যাখ্যা করা। মানুষ কি চায় সেটা গুরুত্বপূর্ণ বটে, কিন্তু মানুষ পছন্দ নাও করতে পারে মনে করে নিজের মতটা পেটের মধ্যে রেখে উল্টা কথা বলা সৎ রাজনীতিবিদের কাজ না। বা আপাতদৃষ্টিতে মানুষের পছন্দ নাও হতে পারে মনে করে নীতির প্রশ্নে আপোষ করা সেটাও রাজনীতিবিদের কাজ না।

আপনার দলের যে আদর্শ যে কর্মসূচী যেটাকে আপনি ঠিক মনে করেন সেটাকে জলাঞ্জলি দিয়ে আপনি যদি জনপ্রিয়তা পাবেন ভেবে থাকেন, ভুল করবেন। বিস্তারিত বললাম না।

(৬)
বঙ্গবন্ধুর কথায় ফিরি।

এই লোকটিই বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা করেছেন আর তাঁরই রাজনৈতিক অর্জন হচ্ছে বাঙালীর জন্যে একটি রাষ্ট্র। মনে রাখবেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে চূড়ান্ত পর্ব এবং সেজন্যেই ১৯৭১ আমাদের জন্যে সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায়। কিন্তু যুদ্ধটা হচ্ছে একটা দীর্ঘ সংগ্রামের অংশ মাত্র- যুদ্ধটাই পুরো সংগ্রাম নয়। আমরা যখন যুদ্ধ শুরু করেছি তখন আমরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে নিয়েই যুদ্ধে নেমেছি। যুদ্ধটা হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে। ভুল করবেন না- ওটা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ছিল না। যুদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে।

কেননা আমর তখন বাঙালীর রাষ্ট্রের জন্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে নিয়েছি আর সেটা করেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই, যুদ্ধটা সেজন্যে বঙ্গবন্ধুর নামেই হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মেনেই হয়েছে, বঙ্গবন্ধুই যে আমাদেরকে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেটা মেনেই হয়েছে।

আফসোস হচ্ছে আমাদের দেশের বুদ্ধিমান লোকদের একটা অংশ ব্যাপারটা ঘোলাটে করতে চায়। ১৯৭৫ সনের পর একদল লোক গজিয়েছে যারা জাতি হিসাবে আমাদের প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা আড়াল করতে চায়। এদের বক্তব্যটা হচ্ছে, মোটা দাগে, পাকিস্তান রাষ্ট্রে ইনসাফ হচ্ছিল না বলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তান ভেঙে আলাদা রাষ্ট্র করেছে বটে, কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মুসলিম পরিচয়টাই মুখ্য। ওদের মতে এটা হচ্ছে এক পাকিস্তান ভেঙে দুই পাকিস্তান বানানোর মত একটা ব্যাপার।

এরা কিন্তু সংখ্যায় নেহায়েত কম না। লক্ষ্য করবেন এদের মুল আক্রমণটা হচ্ছে জাতী হিসাবে আমাদের বাঙালী পরিচয়টা। এইটা ওরা অস্বীকার করতে চায়। এটা অস্বীকার করলে আপনি বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে ফেললেন, কেননা জাতি হিসাবে বাঙালী পরিচয়ই যদি না থাকে তাইলে আর বঙ্গবন্ধু কি প্রতিষ্ঠা করলেন? লক্ষ্য করেবেন যে বাঙালী পরিচয়টি যেহেতু একটি ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়, এরা ধর্মনিরপেক্ষতাকেও আক্রমণ করে।

(৭)
বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবে হত্যা করলেও যে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয় না সে কথা তো বলাই বাহুল্য। এরা এখন নেমেছে আমাদের বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে হত্যা করতে। এটা করতে পারলে আসলেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হবে।

এইখানেই আরেকটা কারণ কেন আমার পনেরই আগস্টে কোন পোষ্ট লিখতে ইচ্ছা করে না। কেননা বঙ্গবন্ধুর শারীরিক মৃত্যু আমাকে ব্যাথিত করে শোকাহত করে অপরাধী করে, কিন্তু যখন ওরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতা বিসর্জন দিতে চায় সে আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি কি শোকের মাতম করবো? নাকি আতঙ্ক সামলাবো?

ইমতিয়াজ মাহমুদ

Write A Comment

error: Content is protected !!