নেতিবাচক কিছু ঘটনা থেকেও মাঝে মাঝে ইতিবাচক ঘটনা ঘটে। কোটা আন্দোলন তার একটা দৃষ্টান্ত হতে পারতো। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা ঠিকঠাক কাজ না করে আর মানুষ যদি তার মনের কথাটা সর্বত্র স্পষ্ট করে বলতে না পারে, তাইলে যে কোন প্রতিবাদ কর্মসূচীতেই মানুষ অংশ নিতে যায়। এবার কোটা আন্দোলনকারীদের উপর যখন হামলা হলো তারপর সকলেই লাইন ধরে সেই আন্দোলনে গেছেন। কোটা সেখানে মুখ্য ছিল না, প্রতিবাদ ছিল মুখ্য।

এই আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সকলেই যে স্বার্থপর নিচ প্রকৃতির ছেলেমেয়েরা তা তো নয়, কিছু ছেলেমেয়ে তো আছে যারা কোটার যৌক্তিকতাটা বুঝতে পারে, অনগ্রসর মানুষের সুযোগ কেড়ে খাওয়া যে অন্যায় সেটাও বুঝতে পারেন। এখন যেহেতু সরকার সকল কোটা দিয়েছে বাতিল করে সেইসব বিবেকবান ছেলেমেয়েরা একটু বিব্রত অবস্থায় পড়ে গেছে। এটা কি হলো? এইটা তো আমি চাইনি। এখন ওরা বুঝতে পারছে যে ব্যাপারটা একটা ছোটলোকি স্বার্থপর নেতিবাচক আন্দোলন ছিল।

কিন্তু কোটা আন্দোলনের নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবী করলো। না, পড়ে আবার মিউ মিউ করে একটু দায়সারা গোছের নাকি সুরে ‘না আমরা তো এইরম চাইনি’ জাতীয় সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদি করেছে বলে শুনেছি।

এই নেতিবাচক আন্দোলনটা থেকে একটা ইতিবাচক ঘটনা ঘটতেও পারতো যদি সেইসব ছেলেমেয়েরা এখন রাজপথে নামতো প্রকৃত ‘কোটা সংস্কারের’ দাবীতে। কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে সেটা হবে না। কেন হবে না? কারণ যেসব ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনটিকে গড়ে তুলতে পারতো, ওদের সাথে জোটে আছে একটি ছোট গ্রুপ, যাদের মাঠে ময়দানে বা ছাত্রদের চেতনায় কোন প্রভাভ না থাকলেও বাম ছাত্র সংগঠনগুলি নিতান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইত্যাদির কারণে এদেরকে অহেতুক গুরুত্ব দেয়।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে বাকপটু এই গ্রুপটি এমনকি বামপন্থাও ত্যাগ করেছে। না, বাম পন্থার চেহারা ত্যাগ করেনি, কেননা তাইলে বুদ্ধিজিবিসুলভ গুরুত্ব চলে যাবে তো, কিন্তু রাজনৈতিক পন্থা হিসাবে বামপন্থা ঠিকই ছুড়ে ফেলেছে। কি ওদের রাজনৈতিক মূলনীতি এখন? ওবামার স্টাইলে পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন সম্ভব ইত্যাদি। আর? আর সিপিডির নেতৃত্বে ২০০৬-৭ সনে তৈরি করা সুশীল সমাজের কর্মসূচী থেকে তুলে নেওয়া কিছু এবস্ট্রাক্ট লাইন ইত্যাদি। এটা নাকি আবার এরা জাতীয় ছনদ বানাবে। তাইলে সিপিডির পুরোটাই নিয়ে নেন, ক্রেডিট দেন।

এর পরেও আমাদের বাম সংগঠনগুলি এদেরকে গুরুত্ব দেয়। মানুষ নাই সাড়ে তিনজন আওয়াজ মারে সোয়া সের। শক্তিটা কোথায়? এদের শক্তি হচ্ছে ঢাকা শহরের মধ্যবিত্তের সেই ক্ষুদ্র অংশ, যারা নিজেদেরকে প্রগতিশীল ভাবতে পছন্দ করে আর রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগ বিদ্বেষ আর ভারত বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছু জানেন না। এদের মধ্যে কিছু সেলেব্রিটি আছেন, গান করেন ছবি আঁকেন এরকম। এদের কোথা আরেকদিন বলি।

এই অন্তরে দক্ষিনপন্থী কিন্তু বাম মুখোশ পরা বাকপটু এই গ্রুপটির কারণে আমাদের বামদের আরও কিছু খেসারত দিতে হবে। সেটা থেকে বাঁচার উপায় কি? আপনারাই বলেন।

ইমতিয়াজ মাহমুদ
সিনিয়র আইনজীবী

Write A Comment

error: Content is protected !!