ঐ ক্ষেপেছে পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই
বিএনপি-জামায়াতে শোর উঠেছে জোরছে সে সামাল সামাল তাই।

১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে বিএনপিপন্থী আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মাহবুবউদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখার সময় হুংকার দিয়ে কামাল হোসেন বলেছেন-

‘যারা সিনহাকে অপমান করেছে, তারা অসভ্য, তারা ধিকৃত হয়ে থাকবেন।…তাদের বিচার একদিন না একদিন করবোই’।

ওইদিন সন্ধ্যায় চেম্বারে বসে সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনের গরম বক্তৃতার কথা মনে হতেই একটি পরিতৃপ্তভাব তাঁকে আবিষ্ট করে ফেললো।একসময় তিনি চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। স্বপ্নে দেখলেন যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক তার ব্রিটিশ জামাই বার্গম্যান তাঁর চেম্বারে এসে প্রশ্ন করছেঃ আব্বাজান আপনি যে গরম বক্তৃতা দিলেন তা শুনে উপস্থিত অনেকেই মুচকি হেসেছে।

কামাল হোসেনঃ কেন?

বার্গম্যানঃ কারণ সকলেই তো জানে আপনি খুব ভীতু প্রকৃতির মানুষ। সবসময় পকেটে বিমানের টিকেট কাটা থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখলেই তো আপনি উড়াল দিয়ে পালিয়ে যান।

কামাল হোসেনঃ এটা ’৭১ কিংবা ’৭৫ নয়, এটা ২০১৮। ৭১-এ মার্কিন প্রভুরা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল তাই আমি তাজউদ্দিনকে ধোঁকা দিয়ে ব্যাগ আনার কথা বলে শ্বশুড়ের দেশ পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলাম। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হলে বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ্বয় আমাকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানালেও, প্রতিবাদ করতে পারিনি। কীভাবে করবো? আমি তো মার্কিনীদের পেয়ারের লোক। প্রভু মার্কিনীরাই তো এই হত্যাকান্ডের নীলনকশা করেছিল। তাই হাঁটু কাঁপছিল।

মার্কিন প্রভুরা এখন আমার পেছনে আছে, কাউকে আমি ডরাই না।

ডঃ কামাল হোসেন

এসময় জয়বাংলা শ্লোগান শুনে কামাল হোসেন চেম্বারের জানালা দিয়ে দেখলেন একটি মিছিল তার চেম্বারের দিকে ধেয়ে আসছে। তিনি ভয়ে চেম্বার ছেড়ে দৌড়ে পালাতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তিনি দেখলেন, রাস্তা দিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উদগাতা আসম আব্দুর রব ও মান্না দৌড়াচ্ছে, তাদের পেছনে পিঠে কুলা বেঁধে একহাতে গীতা আর আরেক হাতে বাইবেল নিয়ে ডাঃ বদরুদ্দোজাও রুদ্ধশ্বাসে পালাচ্ছে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল কামাল হোসেনের। ধড়ফড় করে জেগে উঠলেন। দেখলেন ঘেমে নেয়ে উঠেছেন।

আলী আকবর টাবী
সিনিয়র সাংবাদিকi

 

Write A Comment

error: Content is protected !!