অ” তে অমলেশ, ‘আ’ তে আবাহনী………।

‘গেরিলা ১৯৭১ পরিবার, আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য কিংবদন্তী ফুটবলার এবং আবাহনী দলের কোচ স্বর্গীয় অমলেশ সেন’কে (অমলেশ’দা),গত বছর ঠিক আজকের দিনে, ৭ অক্টোবর তাঁকে আমরা হারিয়েছি চিরদিনের জন্য।

স্বর্গীয় অমলেশ সেন,(জন্মঃ ২রা মার্চ ১৯৪৩– মৃত্যু ৭ই অক্টোবর ২০১৭)। এদিন হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ফুটবল পাগল প্রান মানুষটি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

আজ ৪৭ বছর পর একবার চিন্তা করে দেখুন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের এমন একটা দৃশ্য যেখানে লাল সবুজে মানচিত্র খচিত পতাকা উড়ছে। সেই পতাকা হাতে নিয়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একদল তরুণ। জার্সি, শর্টস আর পায়ে বুট পড়ে সারা ভারত জুড়ে তাঁরা ফুটবল খেলে জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তখনো একটি স্বীকৃত দেশ হয়ে উঠেনি এমন একটি জনপদের পক্ষে।

একমাত্র খেলাই পারে মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে। এ উপলব্ধিতেই একাত্তরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশসেরা ফুটবলাররা। স্বাধীনতা অর্জনে তাঁদের অবদান ভোলা মানে, প্রিয় স্বদেশকেই ছোট করা। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ক্রীড়াঙ্গনের সূর্যসন্তানরা চিরদিন বাংলাদেশের হৃদয়ে অম্লান হয়েই থাকবেন।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল : জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), সাইদুর রহমান প্যাটেল, আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়াতুর রহমান, কেএন নওশেরুজ্জামান, সুভাষ সাহা, ফজলে হোসাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিম উদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, মো. আবদুস সাত্তার, প্রাণগোবিন্দ কু-ু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিত কুমার দে, মাহমুদুর রশিদ,দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, মো. মোজাম্মেল হক, বীরেন দাস বীরু, আবদুল খালেক ও নিহার কান্তি দাস প্রমুখ।

ম্যানেজার ও কোচ ছিলেন যথাক্রমে তানভীর মাজহার এবং ননী বসাক।

গত বছর প্রয়াত শ্রী অমলেশ সেন ছিলেন সেই স্বপ্নিল দলের সদস্য। ক্রীড়া পাগল এ মানুষটি পুরোটা জীবন কাটিয়েছেন ক্রিকেট ও ফুটবলের মাঝে। একজন নিভৃতচারী ফুটবলার অমলেশ সেন, নীরবে-নিভৃতে যে ফুটবলারটি খেলার মাঠে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি হলেন অমলেশ সেন। দূর শৈশবে সেই যে ফুটবলের প্রেমে জড়িয়েছিলেন, সেই বন্ধন কাটাতে পারেননি মৃত্যু পর্যন্ত। ফুটবলই হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান-সাধনা। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন।

স্কুলজীবন থেকে ফুটবল খেলে বেড়ে ওঠা অমলেশ সেন দলের প্রয়োজনে সব পজিশনেই খেলতেন। তার জন্ম বগুড়ায়, ২ মার্চ ১৯৪৩ সালে। ঢাকায় খেলেন ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস আর ইস্টএন্ডের হয়ে। ১৯৭০ সালে যোগ দেন ঢাকা মোহামেডানে। ১৯৭২ সালে যোগ দেন ঢাকা আবাহনীতে। সেই থেকে টানা ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত খেলেছেন তার প্রিয় দলেই। অবসর গ্রহণের পর থেকে তিনি আবাহনীর সঙ্গেই নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।

দেশীয় ফুটবলের সোনালী যুগের খেলোয়াড় শ্রদ্ধেয় অমলেশ সেন যেন আবাহনীর সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন। অ” তে অমলেশ, ‘আ’ তে আবাহনী।

ফুটবল ছাড়াও তিনি ক্রিকেটও খেলেছেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বগুড়া একাদশের ওপেনিং ব্যাটসম্যান। ফুটবল জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে পান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কের যে রাখীবন্ধন গড়ে তোলেন অমলেশ সেন, তা সযত্নে সাধকের নিষ্ঠায় লালন করে এসেছেন।

আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। পরম করুনাময় যেন তাঁকে সম্মানের সাথে চিরশান্তির স্থানে আসীন করেন।

কৃতজ্ঞতা : গেরিলা ৭১

Write A Comment

error: Content is protected !!